প্রফিট মার্জিন কীভাবে হিসাব করবেন: অনলাইন শপের জন্য টাকার উদাহরণসহ গাইড

01 Nov 2026 8 মিনিটে পড়া Read in English
প্রফিট মার্জিন কীভাবে হিসাব করবেন: অনলাইন শপের জন্য টাকার উদাহরণসহ গাইড

বাংলাদেশের অনেক অনলাইন সেলার সারাদিন ব্যস্ত থাকেন — মেসেজ, অর্ডার, পার্সেল — তবু মাস শেষে বিকাশের ব্যালেন্স দেখে মন খারাপ হয়। বেশির ভাগ সময় কারণটা কম বিক্রি না। কারণ হলো এমন একটা দাম, যেটা কাগজে লাভজনক দেখায়, কিন্তু কুরিয়ার চার্জ, বিজ্ঞাপন আর রিটার্নের পরে চুপচাপ লোকসান করে। প্রফিট মার্জিন কীভাবে হিসাব করবেন সেটা ঠিকভাবে জানলে এই ফুটোটা মাসের পরিশ্রম নষ্ট হওয়ার আগেই ধরা যায়।

এই গাইডে একটা প্রোডাক্ট আর বাস্তবের মতো টাকার হিসাব দিয়ে ধাপে ধাপে দেখাব। অ্যাকাউন্টিং জানা লাগবে না — একটা ক্যালকুলেটর, খাতা বা স্প্রেডশিট আর বিশ মিনিট সময়ই যথেষ্ট।

প্রফিট মার্জিন আসলে কী

প্রফিট মার্জিন হলো আপনার বিক্রির দামের কত অংশ লাভ হিসেবে আপনার কাছে থাকে। এটা সবসময় দামের শতাংশ, খরচের না।

প্রফিট মার্জিন (%) = লাভ ÷ বিক্রির দাম × ১০০

একটা কুর্তি ৳১,২০০-তে বিক্রি করে সব খরচের পরে ৳৩০০ থাকলে মার্জিন ৩০০ ÷ ১,২০০ × ১০০ = ২৫%। কাস্টমারের দেওয়া প্রতি ৳১০০-র মধ্যে ৳২৫ আপনার।

ঝামেলা হলো "লাভ" শব্দটা নিয়ে। কোন কোন খরচ বাদ দিচ্ছেন তার ওপর তিন রকম মার্জিন আসে, আর প্রতিটা আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়:

মার্জিন দাম থেকে কী বাদ দেবেন কোন প্রশ্নের উত্তর
গ্রস মার্জিন শুধু প্রোডাক্টের খরচ (কেনা বা বানানো) প্রোডাক্টের দাম কি ঠিক আছে?
অর্ডারপ্রতি মার্জিন প্রোডাক্ট + প্যাকেজিং, কুরিয়ার, COD চার্জ, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার কি সত্যিই লাভ দেয়?
নেট মার্জিন ওপরের সব + ভাড়া, বেতন, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার, মাসের অন্য খরচ পুরো ব্যবসা কি লাভে আছে?

বেশির ভাগ সেলার শুধু প্রথমটা দেখেন। টাকা হারায় দ্বিতীয় আর তৃতীয়টায়।

প্রফিট মার্জিন কীভাবে হিসাব করবেন: ধাপে ধাপে

একটা উদাহরণ প্রোডাক্ট ধরে একদম নিচ পর্যন্ত যাব। সংখ্যাগুলো উদাহরণ — নিজের সাপ্লায়ারের দাম, নিজের কুরিয়ারের রেট কার্ড আর নিজের বিজ্ঞাপনের ফল বসাবেন।

প্রোডাক্ট: ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইটে বিক্রি হওয়া একটা সুতির থ্রি-পিস, ক্যাশ অন ডেলিভারি।

  • বিক্রির দাম: ৳১,২০০
  • প্রোডাক্টের খরচ (সাপ্লায়ার থেকে কেনা, বা কাপড় + মজুরি): ৳৫৫০

ধাপ ১: গ্রস প্রফিট আর গ্রস মার্জিন

গ্রস প্রফিট = দাম − প্রোডাক্টের খরচ = ১,২০০ − ৫৫০ = ৳৬৫০

গ্রস মার্জিন = ৬৫০ ÷ ১,২০০ × ১০০ = ৫৪.২%

দেখতে বেশ ভালো। একটু অপেক্ষা করুন।

ধাপ ২: কাস্টমারের হাতে অর্ডার পৌঁছানোর খরচ যোগ করুন

প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ছোট ছোট খরচ থাকে, যেগুলো সহজেই ভুলে যাওয়া যায়। আমাদের উদাহরণে:

  • প্যাকেজিং (পলি ব্যাগ, টেপ, ইনভয়েস প্রিন্ট): ৳২৫
  • কুরিয়ারের COD চার্জ: ধরুন আদায়ের ১% = ৳১২ (আসল হার আপনার কুরিয়ারের রেট কার্ডে দেখে নিন)
  • কাস্টমার যা দিয়েছেন তার বাইরে আপনি যে ডেলিভারি চার্জ দেন: ৳২০ (যেমন ঢাকার বাইরে কাস্টমারের কাছ থেকে ৳১০০ নেন, কিন্তু ওজনের জন্য কুরিয়ার বেশি নেয়)

মোট ৳৫৭। হাতে থাকে: ৬৫০ − ৫৭ = ৳৫৯৩।

ধাপ ৩: অর্ডারপ্রতি বিজ্ঞাপনের খরচ যোগ করুন

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিলে প্রতিটা অর্ডারের পেছনে বিজ্ঞাপনের খরচ থাকে। এভাবে বের করুন:

অর্ডারপ্রতি বিজ্ঞাপন খরচ = মাসের বিজ্ঞাপন খরচ ÷ বিজ্ঞাপন থেকে আসা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার

ধরুন গত মাসে বিজ্ঞাপনে ৳৩০,০০০ খরচ হয়েছে আর তা থেকে ২০০টা অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে। মানে অর্ডারপ্রতি ৳১৫০।

হাতে থাকে: ৫৯৩ − ১৫০ = ৳৪৪৩। রিটার্নের আগে অর্ডারপ্রতি মার্জিন = ৪৪৩ ÷ ১,২০০ = ৩৬.৯%।

ধাপ ৪: রিটার্নের খরচ ডেলিভারি হওয়া অর্ডারে ভাগ করুন

এই ধাপটাই বেশির ভাগ সেলার বাদ দেন, অথচ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এটা অনেক বড়। ফেরত আসা পার্সেল কিছুই আয় করে না, কিন্তু খরচ ঠিকই হয়: যাওয়ার ডেলিভারি চার্জ, সাধারণত একটা রিটার্ন চার্জ, আর প্যাকেজিং।

উদাহরণে একটা রিটার্নের খরচ প্রায় ৳১১৫ (৳৬০ ডেলিভারি + ৳৩০ রিটার্ন চার্জ + ৳২৫ প্যাকেজিং)। ধরুন প্রতি ১০০টা পার্সেলে ১৫টা ফেরত আসে।

তাহলে প্রতি ৮৫টা ডেলিভারির সাথে ১৫টা রিটার্নের খরচ দিতে হয়। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের ঘাড়ে পড়ে:

১৫ ÷ ৮৫ × ৳১১৫ = প্রায় ৳২০

হাতে থাকে: ৪৪৩ − ২০ = ৳৪২৩। অর্ডারপ্রতি মার্জিন = ৪২৩ ÷ ১,২০০ = ৩৫.৩%।

রিটার্ন বেশি হলে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ে — আমাদের আগের লেখা কুরিয়ার রিটার্ন কমানোর ৯টি উপায় পড়ে দেখতে পারেন।

ধাপ ৫: মাসের স্থায়ী খরচ যোগ করুন

ভাড়া, স্টাফের বেতন, ইন্টারনেট, ফোন বিল, সফটওয়্যার আর আপনার নিজের বেতন — এগুলো অর্ডারের সাথে বাড়ে-কমে না, কিন্তু অর্ডার থেকেই এগুলো উঠাতে হয়। ডেলিভারি হওয়া অর্ডার দিয়ে ভাগ করুন:

অর্ডারপ্রতি স্থায়ী খরচ = মাসের স্থায়ী খরচ ÷ মাসে ডেলিভারি হওয়া অর্ডার

ধরুন মাসে স্থায়ী খরচ ৳৬০,০০০ আর ডেলিভারি ৪০০টা: অর্ডারপ্রতি ৳১৫০।

অর্ডারপ্রতি নেট লাভ = ৪২৩ − ১৫০ = ৳২৭৩

নেট মার্জিন = ২৭৩ ÷ ১,২০০ × ১০০ = ২২.৮%

মানে যে প্রোডাক্ট "৫৪% লাভ দেয়" বলে মনে হচ্ছিল, সেটা আসলে প্রতি ১০০ টাকায় প্রায় ২৩ টাকা রাখে। এটাও ভালো ব্যবসা — কিন্তু ছবিটা একদম আলাদা, আর এটাই ঠিক করে দেয় কতটা ডিসকাউন্ট দিতে পারবেন আর বিজ্ঞাপনে কত খরচ করতে পারবেন।

৳১,২০০ দাম থেকে ৳২৭৩ নেট লাভ (উদাহরণ) বিক্রির দাম ৳১,২০০ − প্রোডাক্ট খরচ ৳৫৫০ ৳৬৫০ · ৫৪.২% − প্যাক, COD, ডেলিভারি ৳৫৭ ৳৫৯৩ − বিজ্ঞাপন ৳১৫০ ৳৪৪৩ − রিটার্নের ভাগ ৳২০ ৳৪২৩ · ৩৫.৩% − স্থায়ী খরচ ৳১৫০ ৳২৭৩ · ২২.৮% নেট মার্জিন গ্রস মার্জিন প্রোডাক্ট দেখায়, নেট মার্জিন ব্যবসা দেখায়। দাম ঠিক করুন দ্বিতীয়টা দেখে।
একটা ৳১,২০০-র প্রোডাক্ট থেকে পাঁচটা খরচ বাদ: ৫৪% গ্রস মার্জিন হয়ে যায় প্রায় ২৩% নেট মার্জিন (উদাহরণের সংখ্যা)।

মার্কআপ আর মার্জিন: যে ভুলে দাম কম পড়ে যায়

অনেক সেলার বলেন "খরচের ওপর ১০০% ধরি" আর ভাবেন মার্জিন ১০০%। আসলে না। খরচের ওপর ১০০% যোগ করা হলো মার্কআপ; এতে মার্জিন হয় ৫০%।

  • মার্কআপ = লাভ ÷ খরচ
  • মার্জিন = লাভ ÷ দাম

উদাহরণে ৳৫৫০ খরচে গ্রস লাভ ৳৬৫০: মার্কআপ ১১৮%, কিন্তু মার্জিন ৫৪.২%। দুটোই ঠিক, শুধু আলাদা সংখ্যার সাথে তুলনা। এই টেবিল দিয়ে এক থেকে আরেকটায় যান:

খরচের ওপর এই মার্কআপ দিলে গ্রস মার্জিন হয়
২৫% ২০%
৫০% ৩৩.৩%
১০০% ৫০%
১৫০% ৬০%
২০০% ৬৬.৭%

মার্জিন = মার্কআপ ÷ (১ + মার্কআপ) — যেমন ১.০ ÷ ২.০ = ৫০%।

সাপ্লায়ার, পার্টনার বা ইনভেস্টর মার্জিন জিজ্ঞেস করলে প্রায় সবসময় দামের শতাংশ হিসেবে লাভই বোঝান।

যে মার্জিন চান, সেখান থেকে দাম ঠিক করুন

কত মার্জিন দরকার জানলে আন্দাজ না করে উল্টো দিক থেকে দাম বের করা যায়।

দাম = খরচ ÷ (১ − কাঙ্ক্ষিত মার্জিন)

উদাহরণ ১ — গ্রস মার্জিন। প্রোডাক্টের খরচ ৳৫৫০, চান ৫৫% গ্রস মার্জিন: ৫৫০ ÷ (১ − ০.৫৫) = ৫৫০ ÷ ০.৪৫ = ৳১,২২২। কাস্টমারের পছন্দের একটা দামে গোল করুন, যেমন ৳১,২৫০।

উদাহরণ ২ — অর্ডারপ্রতি সব খরচসহ। অর্ডারপ্রতি টাকার অঙ্কের সব খরচ যোগ করুন: প্রোডাক্ট ৳৫৫০ + প্যাকেজিং ৳২৫ + বাড়তি ডেলিভারি ৳২০ + বিজ্ঞাপন ৳১৫০ + রিটার্ন ৳২০ + স্থায়ী ৳১৫০ = ৳৯১৫। COD চার্জ দামের শতাংশ, তাই সেটা মার্জিন থেকে বাদ দিন: ২০% নেট লাভ চাইলে আর COD চার্জ ১% হলে ৯১৫ ÷ (১ − ০.২০ − ০.০১) = ৯১৫ ÷ ০.৭৯ = ৳১,১৫৮। আপনার ৳১,২০০ দাম এই লক্ষ্য পার করে, একটু জায়গাও থাকে।

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া দশটা প্রোডাক্টের জন্য এটা করুন। প্রায়ই দেখা যায় এক-দুটো প্রোডাক্ট খুব চলে, কিন্তু লাভ প্রায় কিছুই দেয় না।

ডিসকাউন্ট কীভাবে মার্জিন খেয়ে ফেলে

কাস্টমারের কাছে ডিসকাউন্ট ছোট মনে হয়, আপনার লাভে সেটা বিশাল। আমাদের প্রোডাক্টে ১০% ছাড় দিলে দাম ৳১,২০০ থেকে ৳১,০৮০।

  • গ্রস লাভ ৳৬৫০ থেকে ৳৫৩০ (−১৮%)।
  • রিটার্নের আগে অর্ডারপ্রতি লাভ ৳৪৪৩ থেকে প্রায় ৳৩২৪ (COD চার্জও একটু কমে ৳১০.৮০ হয়) — ২৭% কম।

আগের সমান টাকা কামাতে লাগবে প্রায় ৪৪৩ ÷ ৩২৪ = ১.৩৭ গুণ অর্ডার — শুধু জায়গায় থাকতেই ৩৭% বেশি।

এর মানে "কখনো ডিসকাউন্ট দেবেন না" না। মানে: অফার চালানোর আগে সংখ্যাটা জানুন, আর এমন অফার বেছে নিন যেটা মার্জিন বাঁচায় — ৳৪০ খরচের একটা ফ্রি গিফট, বান্ডেল ("২টা নিলে ৳১০০ কম"), বা শুধু পুরনো কাস্টমারদের জন্য কুপন। নিজের ওয়েবসাইটে বিক্রি করলে কুপন কোড দিয়ে ঠিক করতে পারেন কে কতদিন ছাড় পাবে।

প্রতিটা প্রোডাক্টের প্রফিট মার্জিন চেকলিস্ট

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া দশটা প্রোডাক্টের জন্য এই তালিকা ধরে যান। উত্তরগুলো খাতা বা স্প্রেডশিটে লিখুন।

  1. প্রোডাক্টের খরচ — আসল খরচ, সাপ্লায়ার থেকে আনার ভাড়া আর মজুরিসহ।
  2. প্যাকেজিং — ব্যাগ, বক্স, টেপ, প্রিন্ট করা ইনভয়েস, থ্যাংক-ইউ কার্ড।
  3. কুরিয়ার — আপনি যে ডেলিভারি চার্জ দেন তার থেকে কাস্টমারের দেওয়া ডেলিভারি চার্জ বাদ, সাথে COD চার্জের হার।
  4. বিজ্ঞাপন — বিজ্ঞাপন খরচ ÷ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার (মেসেজ বা কনফার্ম অর্ডার দিয়ে না)।
  5. রিটার্ন — রিটার্নের হার ÷ (১ − রিটার্নের হার) × একটা রিটার্নের খরচ।
  6. স্থায়ী খরচ — মাসের স্থায়ী খরচ ÷ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার।
  7. অর্ডারপ্রতি নেট লাভ — দাম থেকে ওপরের সব বাদ।
  8. নেট মার্জিন — নেট লাভ ÷ দাম × ১০০।
  9. সিদ্ধান্ত — দাম রাখবেন, বাড়াবেন, কোনো খরচ কমাবেন, নাকি এই প্রোডাক্টে বিজ্ঞাপন থামাবেন।

অনেক সেলার একটা সহজ নিয়ম মানেন: কোনো প্রোডাক্টের অর্ডারপ্রতি মার্জিন (ওপরের ধাপ ৪) যদি স্থায়ী খরচ মেটানোর মতো না হয়, দাম বা খরচ না বদলানো পর্যন্ত সেটার বিজ্ঞাপন বাড়াবেন না।

সংখ্যাগুলো কোথা থেকে আসবে — আর কীভাবে আপডেট রাখবেন

কঠিন অংশ সূত্র না। কঠিন হলো প্রতি মাসে সৎ সংখ্যা পাওয়া: কোন পার্সেল ডেলিভারি হলো, কুরিয়ার আসলে কত চার্জ নিল, কতগুলো ফেরত এলো, আর খরচ কত হলো।

  • কুরিয়ার চার্জ আর রিটার্ন আসে কুরিয়ারের পেমেন্ট স্টেটমেন্ট আর পার্সেল লিস্ট থেকে। মাস শেষে না, প্রতি সপ্তাহে মিলিয়ে দেখুন।
  • অর্ডারপ্রতি বিজ্ঞাপন খরচ ডেলিভারি হওয়া অর্ডার দিয়ে হিসাব করুন। ক্যানসেল বা ফেরত অর্ডার কিছু আয় করেনি।
  • স্থায়ী খরচে নিজের বেতনও ধরুন। নিজে বিনা বেতনে খাটলে তবেই যদি লাভ হয়, সেই মার্জিন আসল না।

eCommerce Autopilot এই সংখ্যাগুলো এক জায়গায় রাখে: সেলার অর্ডার, ডেলিভারি আর COD চার্জসহ কুরিয়ার পার্সেল, ক্যাশবুক আর লাভ-ক্ষতির হিসাব — তাই স্প্রেডশিট না বানিয়েই আসল মার্জিন দেখতে পান। নিজের দোকান দিয়ে ফ্রি শুরু করে দেখতে পারেন।

যারা আগে থেকেই eCommerce Autopilot ব্যবহার করছেন, এই উত্তরগুলোতে দেখবেন কোন সংখ্যা কোথায়:

একদম শুরুতে থাকলে আমাদের গাইড বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন দামের আগের ধাপগুলো দেখায়, আর ফ্রি প্রফিট মার্জিন ক্যালকুলেটর কয়েক সেকেন্ডে একটা প্রোডাক্টের হিসাব করে দেয়।

প্রফিট মার্জিন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

অনলাইন শপের জন্য ভালো প্রফিট মার্জিন কত? একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই — প্রোডাক্ট, বিজ্ঞাপনের খরচ আর রিটার্নের হারের ওপর নির্ভর করে। আসল কথা হলো সব খরচের পরে নেট মার্জিন পজিটিভ থাকা, আর খারাপ একটা মাস সামলানোর মতো যথেষ্ট থাকা। নিজের প্রোডাক্টগুলোকে একটার সাথে আরেকটা আর গত মাসের সাথে তুলনা করুন।

কাস্টমার যে ডেলিভারি চার্জ দেন, সেটা কি বিক্রি ধরব? আলাদা রাখুন। কাস্টমারের ডেলিভারি চার্জের বেশির ভাগ সোজা কুরিয়ারের কাছে যায়, তাই সেটা বিক্রি ধরলে মার্জিন আসলের চেয়ে ভালো দেখায়। শুধু যে পার্থক্য আপনি নিজে দেন, সেটাই খরচ।

কতদিন পরপর আবার হিসাব করব? যখনই কোনো খরচ বদলায় — সাপ্লায়ারের নতুন দাম, কুরিয়ারের রেট বদল, বিজ্ঞাপন খরচ হঠাৎ বাড়া — আর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলোর জন্য অন্তত মাসে একবার।

আজকের একটা কাজ

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টটা বেছে নিন আর গত মাসের আসল সংখ্যা দিয়ে ওপরের পাঁচ ধাপে তার নেট মার্জিন বের করুন। যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে কম এলে — আরেকটা বিজ্ঞাপন বা আরেকটা ডিসকাউন্টের আগেই আপনি এই মাসের সবচেয়ে দামি সমস্যাটা খুঁজে পেয়েছেন।

eCommerce Autopilot দিয়ে আজই কাজে লাগান ওয়েবসাইট, অর্ডার, কুরিয়ার, ফেসবুক ইনবক্স, স্টাফ আর হিসাব — এক জায়গায়। ৭ দিন ফ্রি।
ফ্রি শুরু করুন →